ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

ইমরান খানকে জেল থেকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এই তথ্য জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবার ও দলের উদ্বেগের মুখে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার দাবি পূরণ হল আদালতের এই নির্দেশে। সাবেক ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে কারাগারে বন্দি।


২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলায় তিনি দণ্ডিত হয়েছেন, তবে এসব মামলাকে শুরু থেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি।গত বছর থেকেই ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন তার দুই ছেলে। তার আইনজীবীরা জানান, কারাগারে থাকার সময় ইমরান খান তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি অনেকটাই হারিয়েছেন।


সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে স্বাগত জানিয়ে পিটিআই-এর মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি বলেন, এটি খুবই স্বস্তিদায়ক এক নির্দেশ। এটি আরও আগে হলে তার চোখ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের এতটা অবনতি হত না। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তার হাসপাতালেই থাকা উচিত।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইমরান খানের মুখপাত্র নাইম হায়দার পাঞ্জুথা জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে এবং আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে সেখানে রাখা হবে। অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ইমরান খান রাষ্ট্রীয় উপহার এবং বেআইনি বিয়েসহ একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন।


এর মধ্যে তার কয়েকটি সাজা স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে এবং বেশ কিছু আপিল বর্তমানে বিচারাধীন। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব ধরনের অন্যায় বা অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে আসছেন।


এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বজুড়ে ও প্রতিবেশী ভারতের বেশ কয়েকজন খ্যাতনামা ক্রিকেটার ইমরান খানের বন্দিদশা নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেন এবং তার উন্নত চিকিৎসার দাবি জানান।


২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসা পিটিআই প্রধান প্রধান প্রদেশগুলোতে এখনও নিজেদের বিশাল জনসমর্থন ধরে রেখেছে। তবে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে দলটির নির্বাচনী প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়, যার ফলে এর প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল।


ads
ads
ads

Our Facebook Page